পঞ্চগড় খবর

পঞ্চগড়ে প্রশিক্ষণার্থী থেকে প্রশিক্ষক: সাব্বিরের সাফল্যের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

পঞ্চগড়ে ডেস্কে বসে ল্যাপটপে কাজ করছেন এক প্রশিক্ষণার্থী।
ছবি: পঞ্চগড় খবর

একটি স্বপ্ন, শেখার আগ্রহ এবং কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে যাত্রা শুরু করেছিলেন এক যুবক। প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানে নিজের দক্ষতা গড়ে তোলার পথচলা শুরু, অল্প সময়ের ব্যবধানেই সেই প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বলছি বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি এলাকার আবু তাহেরের সন্তান আবু সাইদ সাব্বিরের কথা। যিনি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে 'এসইও এক্সপার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড'-এর পঞ্চগড় শাখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই অগ্রযাত্রা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আগ্রহী তরুণদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।

​প্রশিক্ষণের নানা অধ্যায়: ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সাব্বিরের নতুন এই অধ্যায় শুরু হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং 'ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড'-এর পরিচালনায় দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় পঞ্চগড়ে সুযোগ পান তিনি। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ব্যাচ-০৬-এর প্রশিক্ষণকাল তাঁর জীবনে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এবং সম্ভাবনা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল।

​প্রশিক্ষণকালে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। এ সময়ে মেন্টর সাবরিনা আক্তার, মমিনুল ইসলাম সানি ও রুবেল চৌধুরী তাঁকে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া মো. আরিফ হোসেনের দিকনির্দেশনাও তাঁর শেখার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

​শিক্ষার্থী থেকে প্রশিক্ষক:

প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে এনএসডিএ-র যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয় তাঁর। যে প্রশিক্ষণকক্ষে একসময় নিজে শিক্ষার্থী হিসেবে বসতেন, সেই একই কক্ষে প্রশিক্ষক হিসেবে ফিরে আসা তাঁর পথচলার অন্যতম বড় অর্জন। সাব্বিরের কাছে এই অভিজ্ঞতা কেবল দায়িত্ব পরিবর্তন নয়; বরং শেখার আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

​বেকারত্ব মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জন:

দেশের তরুণ সমাজের জন্য বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের উপযোগী করে তুলতে সহায়তা করে।

​ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়া যথেষ্ট নয়; নিয়মিত অনুশীলন ও বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তা বিকশিত করতে হয়। সাব্বির মনে করেন, তরুণদের উচিত শুধু চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়া। এতে চাকরির পাশাপাশি স্বনির্ভর হওয়ার পথও উন্মুক্ত হয়।

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি নিয়ে আরও পড়ুন

মন্তব্য