পঞ্চগড় খবর

বোদায় নারীকে শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দেবরের বিরুদ্ধে

আশরাফুল ইসলাম (বোদা) পঞ্চগড়

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

বোদায় নারীকে শ্লীলতাহানি ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দেবরের বিরুদ্ধে
ছবি: বা থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান ও ভুক্তভোগী নারগিস

পঞ্চগড়ের বোদায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারীকে পিটিয়ে জখম, শ্লীলতাহানি এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর ও দেবরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মোছা. নারগিস আক্তার বোদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—ভুক্তভোগীর দেবর মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তা ও তাঁর স্ত্রী মোছা. সাহিনা । তারা বোদা উপজেলার বেংহাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মুস্তাফিজুর রহমান পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মচারী হিসবে কর্মরত আছেন বলে জানা যায়।

​লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, নারগিস আক্তারের স্বামী মো. জাকির হোসেন জীবিকার প্রয়োজনে রাজশাহী অবস্থান করেন। এ সুযোগে দেবর ও দেবরের স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারগিসের ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে আসছিলেন।

​গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে অভিযুক্তরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে মুস্তাফিজুর ও সাহিনা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। অভিযোগে বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে নারগিসের পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় তাঁর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

​ভুক্তভোগীর স্বামী মো. জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, "আমার স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে এদের হাতে নিগৃহীত হচ্ছে। আমি এ বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

অভিযুক্তের বাবা মো. খয়রুল আলম অভিযোগ করে বলেন, “মোস্তাফিজুর আমাকে বাবা হিসেবে গ্রাহ্য করে না। সে ও তার স্ত্রী আমার সামনেই বড় ভাবি এবং ছোট ছেলের স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। প্রায় তিন বছর আগে ছোট ছেলের স্ত্রীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এখন ছোট ছেলের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে থাকেন। বাবা হিসেবে আমি অসহায়। সে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও তোয়াক্কা করে না।”

​একই সুর স্থানীয় প্রতিবেশী মো. আনোয়ারুল ইসলামের মুখেও। তিনি জানান, সরকারি চাকরির প্রভাব দেখিয়ে মুস্তাফিজুর ও তাঁর স্ত্রী প্রায়ই স্বজনদের ওপর অত্যাচার চালান এবং প্রতিবেশীদের সাথে অসদাচরণ করেন।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

​অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা বোদা থানার এসআই তৌহিদ ইসলাম দৈনিক পঞ্চগড় খবরকে বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে।

শেয়ার করুন

জেলার খবর নিয়ে আরও পড়ুন

মন্তব্য